ফসলহানির দুশ্চিন্তা মনে চেপে বসলে: একা বয়ে বেড়াতে হবে না
বন্যায় আমন ভেসে যাওয়া, উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দাম, শোধ করতে না পারা ঋণ — কৃষিকাজে দুশ্চিন্তা ভারী, আর প্রায়ই একসঙ্গে আসে। পরিবারের জন্য শক্ত থাকতে হবে ভেবে অনেক কৃষক সব কিছু মনের ভেতরে চেপে রাখেন। এমন অবস্থায় ভেঙে পড়া দুর্বলতা নয়। এটা মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, আর এটা ভালো হতে পারে।
দুশ্চিন্তা মাত্রা ছাড়াচ্ছে — যে লক্ষণে বুঝবেন
- ঘুম না আসা, বা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঘুমানো।
- খাবার, কাজ, পরিবার বা নামাজ-প্রার্থনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
- নিজেকে আশাহীন, মূল্যহীন বা আটকে পড়া মনে হওয়া; মনে হওয়া যে আপনি না থাকলে পরিবার ভালো থাকত।
- অল্পতেই রেগে যাওয়া, বা মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া।
- স্পষ্ট কারণ ছাড়া মাথাব্যথা, বুক ভার বা পেটের সমস্যা।
যা সাহায্য করে
- বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলুন — স্ত্রী বা স্বামী, ভাই, বন্ধু, ইমাম বা প্রতিবেশী। মুখে বললে বোঝা হালকা হয়।
- একবারে একটি সমস্যা ধরুন। কার কাছে কত ঋণ, কোনটা আগে শোধ করতে হবে — লিখে ফেলুন।
- আগেভাগে ঋণদাতার সঙ্গে কথা বলুন। দুর্যোগের পরে এনজিও ও ব্যাংক অনেক সময় কিস্তি পুনঃতফসিল করে; কিস্তি বাকি পড়ার আগেই জিজ্ঞেস করুন।
- ফসলহানির পর বীজ-সার সহায়তার মতো সাহায্যের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে খোঁজ নিন।
- দিনের একটা নিয়ম রাখুন — খাওয়া, বিশ্রাম, বাইরে যাওয়া, আর সন্তানদের সঙ্গে একটু সময়।
বিনামূল্যে কথা বলার জায়গা
- স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩: ফোনে ডাক্তাররা ২৪ ঘণ্টা মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দেন।
- কান পেতে রই (মানসিক সহায়তা, বাংলায়): ০১৯৮৫২৭৫২৮৬, ০১৮৫২০৩৫৬৩৪ বা ০১৫১৭৯৬৯১৫০। প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা বিচার না করে শোনেন, আর আপনার কথা গোপন রাখেন।
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ঘুম, দুশ্চিন্তা বা মন খারাপের কথা বলে ডাক্তার দেখান।
কাউকে নিয়ে চিন্তা হলে
পরিবারের কেউ বা প্রতিবেশী যদি মরে যেতে চাওয়ার কথা বলেন বা সব ছেড়ে দিচ্ছেন বলে মনে হয়, বিষয়টি গুরুত্ব দিন। তাঁর পাশে থাকুন, তর্ক না করে শুনুন, কীটনাশক ও অন্যান্য বিপজ্জনক জিনিস তালাবদ্ধ রাখুন, আর ১৬২৬৩ বা কান পেতে রই-তে ফোন করতে সাহায্য করুন। তাৎক্ষণিক বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন বা হাসপাতালে নিন।
কঠিন মৌসুম কেটে যায়। সাহায্য চাওয়া পরিবারের জন্য একজন কৃষকের সবচেয়ে সাহসী কাজগুলোর একটি। এই সাইটের ‘কৃষক কল্যাণ’ পাতায় এসব নম্বর এক জায়গায় পাবেন।