বাংলাদেশে বীজ আমদানি: অনুমতিপত্র পাওয়ার ধাপে ধাপে নিয়ম
বাংলাদেশ আমদানি করা বীজের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বীজ নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হাইব্রিড ভুট্টা বীজের প্রায় ৯০–৯৫%, তেলবীজের ৮০–৯০%, ডালের প্রায় ৮০%, পাটের ৭৫–৮০% এবং সবজি বীজের প্রায় ৬০% আমদানি করা হয়। ধানের বীজের বেশিরভাগ দেশেই উৎপাদিত হয়।
বীজ আসে কোথা থেকে
একই প্রতিবেদনে আমদানি করা ভুট্টা বীজের প্রধান উৎস হিসেবে ভারত, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র এবং পাট বীজের প্রধান উৎস হিসেবে ভারতের নাম এসেছে। সরবরাহকারী খুঁজতে এই ডিরেক্টরিতে থাকা চীন, থাইল্যান্ড, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বীজ সমিতিগুলো ভালো শুরুর জায়গা।
আমদানির অনুমোদন কে দেয়
- সিড উইং, কৃষি মন্ত্রণালয়: এর অনুমোদন অনুমতিপত্রের আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হয়।
- উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং (পিকিউডব্লিউ), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর: আমদানি অনুমতিপত্র দেয় ও চালান পরিদর্শন করে।
- বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি: বীজের মান পরীক্ষা ও প্রত্যয়ন করে।
অনুমতিপত্রের ধাপ
- জাত ও পরিমাণের জন্য সিড উইংয়ের অনুমোদন নিন।
- ঋণপত্র (এলসি) খোলার আগে পিকিউডব্লিউতে আমদানি অনুমতিপত্রের আবেদন করুন — পণ্যের ধরন, পরিমাণ, উৎস দেশ, ব্যবহারের উদ্দেশ্য ও কোনো ট্রিটমেন্ট থাকলে তা উল্লেখ করুন।
- সাধারণত প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে অনুমতিপত্র দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
- শুধু নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়েই আমদানি করুন।
- অনুমতিপত্র ৪ মাস বৈধ; আবেদন করলে সর্বোচ্চ ২ মাস বাড়ানো যায়।
- পৌঁছানোর পর পরিদর্শন এবং ছাড়ের আগে প্রবেশ-পরবর্তী সংগনিরোধ হতে পারে।
নিয়ম বদলাতে পারে, তাই অর্ডার দেওয়ার আগে প্রতিটি ধাপ উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। আইনি ভিত্তি হলো উদ্ভিদ সংগনিরোধ আইন ২০১১ ও উদ্ভিদ সংগনিরোধ বিধিমালা ২০১৮।
খারাপ বীজ থেকে কৃষককে রক্ষা
নকল বা নিম্নমানের বীজ কৃষকদের সবচেয়ে সাধারণ অভিযোগগুলোর একটি। নিবন্ধিত ডিলারের কাছ থেকে কিনুন, প্যাকেট ও রসিদ রেখে দিন, এবং সন্দেহজনক বীজের কথা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি বা উপজেলা কৃষি অফিসে জানান।
তথ্যসূত্র
- Explainer: Why seed security is vital for Bangladesh's food future — The Business Standard
- Seed Phyto Portal: Bangladesh — APSA
- Access to Seeds Index: Bangladesh country profile