আলুর লেট ব্লাইট (নাবি ধসা): আগেভাগে চিনুন, ছড়ানোর আগেই ব্যবস্থা নিন
লেট ব্লাইট বা নাবি ধসা বাংলাদেশে আলুর সবচেয়ে ভয়ংকর রোগ। ডিসেম্বর–জানুয়ারির ঠান্ডা, কুয়াশা আর আর্দ্র দিনে এটি আসে। আবহাওয়া অনুকূল হলে কয়েক দিনের মধ্যে পুরো খেতে, এমনকি পাশের খেতেও ছড়িয়ে পড়ে। টমেটো ও বেগুনেও এ রোগ হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন: রোগ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে, ঝুঁকির আবহাওয়া শুরু হলেই প্রায় ৭ দিন পরপর প্রতিরোধমূলক স্প্রে।
লক্ষণ চিনুন
- পাতায় ফ্যাকাশে সবুজ বা গাঢ়, পানিতে ভেজা ভেজা দাগ, প্রায়ই পাতার আগা ও কিনারা থেকে শুরু।
- দাগ দ্রুত বাদামি-কালো হয়ে ছড়ায়; ভেজা সকালে পাতার নিচের দিকে সাদা পাতলা আস্তরণ দেখা যায়।
- কাণ্ডে কালো বা বাদামি লম্বা দাগ; গাছ পুড়ে যাওয়ার মতো নুয়ে পড়ে।
- বেশি আক্রান্ত খেত থেকে পচা গন্ধ আসে। আলুর গায়ে বাদামি, বসে যাওয়া দাগ হয়ে হিমাগারে পচে যেতে পারে।
প্রতিরোধ
- সুস্থ, প্রত্যয়িত বীজ আলু লাগান। যে খেতে ব্লাইট হয়েছিল, সেখানকার আলু বীজ হিসেবে নেবেন না।
- আবহাওয়ায় নজর রাখুন। টানা দু–তিন দিন কুয়াশা ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মানেই ব্লাইটের আবহাওয়া।
- কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ছত্রাকনাশক স্প্রে শুরু করুন। শুধু অনুমোদিত ওষুধ, প্যাকেটে লেখা মাত্রায় ব্যবহার করুন; মাস্ক ও গ্লাভস পরুন, শিশু ও পশুকে দূরে রাখুন।
- সন্ধ্যায় সেচ দেবেন না, অতিরিক্ত ইউরিয়া দেবেন না; দুটোই গাছকে বেশি ঝোপালো ও ভেজা রাখে।
খেতে রোগ দেখলে
- সেদিনই ব্যবস্থা নিন। বেশি আক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলুন বা পুড়িয়ে দিন; খেতে ফেলে রাখবেন না, খালে ফেলবেন না।
- কৃষি কল সেন্টার ১৬১২৩ বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ফোন করে জেনে নিন কোন প্রতিষেধক ছত্রাকনাশক, কত দিন পরপর দেবেন।
- প্রতিবেশীদের জানান। ব্লাইটের জীবাণু বাতাসে ছড়ায়, তাই একা একটি খেতে স্প্রে করলে যথেষ্ট নয়।
- আলু তোলার সপ্তাহখানেক আগে গাছের ওপরের অংশ (হাম) কেটে সরিয়ে ফেলুন; কাটা বা পচা আলু ভালো আলুর সঙ্গে সংরক্ষণ করবেন না।
নিরাপদে স্প্রে করুন
ছত্রাকনাশক রাসায়নিক পদার্থ। শুধু লাইসেন্সধারী ডিলারের কাছ থেকে কিনুন, মেয়াদ দেখে নিন, আন্দাজে একাধিক ওষুধ মেশাবেন না, বাতাসের উল্টো দিকে স্প্রে করবেন না। স্প্রের পর হাত-মুখ ধুয়ে নিন, আর আলু তোলার আগে প্যাকেটে লেখা অপেক্ষার সময় মেনে চলুন।
এই সাইটের ‘গবেষণা ও জাত’ অংশে বারিসহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের লিংক, আর ‘সরকারি সেবা’ অংশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য আছে।