শীতে বোরোর বীজতলা: চারা ঠান্ডা থেকে বাঁচানোর উপায়
বেশির ভাগ বোরোর বীজতলা করা হয় নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরে। এ সময়েই শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা শুরু হয়, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে। বেশি ঠান্ডায় কচি চারা প্রথমে হলুদ, পরে লালচে-বাদামি হয়ে মরে যেতে পারে। তখন কৃষককে আবার বীজ কিনে বীজতলা করতে হয়, কয়েক সপ্তাহ নষ্ট হয়।
আগের এক শৈত্যপ্রবাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) এক কর্মকর্তা সতর্ক করেছিলেন, তাপমাত্রা ২–৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে ২৪ ঘণ্টা থাকলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে বীজতলা।
বীজ বোনার আগে
- এলাকার উপযোগী জাতের ভালো, প্রত্যয়িত বীজ নিন। কোন বোরো জাত ঠান্ডা সহ্য করে, উপজেলা কৃষি অফিসে জিজ্ঞেস করুন।
- বীজতলার জন্য রোদ পড়ে এমন খোলা জায়গা বাছুন, উঁচু গাছ ও ছায়া থেকে দূরে।
- বীজতলা একটু উঁচু ও সমান করুন, পাশে নালা রাখুন যাতে পানি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
শীত এলে যা করবেন
- সন্ধ্যা ও রাতে বাঁশের কাঠির কাঠামোর ওপর স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিন, যাতে পলিথিন চারার গায়ে না লাগে।
- সকালে রোদ উঠলে ঢাকনা খুলে দিন, যাতে চারা আলো-বাতাস পায়। সারা দিন ঢেকে রাখলে বেশি গরমে চারা দুর্বল হয়।
- রাতে বীজতলায় পাতলা স্তরে পানি রাখুন; পানি তাপ ধরে রাখে। সকালে ঠান্ডা পানি বের করে নতুন পানি দিন।
- সকালে চারার পাতা থেকে শিশির ঝরিয়ে দিন।
- চারা হলুদ হলে আন্দাজে সার দেবেন না। আগে ১৬১২৩-এ ফোন করুন বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে বীজতলা দেখান।
চারা রোপণ
শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে চারা মূল জমিতে রোপণ করবেন না। কয়েক দিন একটু গরম পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। খুব কচি বা খুব বয়স্ক চারা ঠান্ডায় বেশি কষ্ট পায়, তাই আপনার জাতের জন্য চারার সঠিক বয়স স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে জেনে নিন।
সাহায্য কোথায় পাবেন
কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩) ও উপজেলা কৃষি অফিস বিনামূল্যে পরামর্শ দেয়। এই সাইটের ‘বীজ — দেশে’ অংশে বাংলাদেশে প্রত্যয়িত বীজ কোথায় পাবেন, তার তালিকা আছে।